আর্যাবর্তের কথা(দুই)

পরিচিতিঃ দুর্গাশঙ্কর দীর্ঘাঙ্গী দীর্ঘদিন বার্ণপুরে কর্মরত ছিলেন। তাঁর নিজের জন্মস্থান চন্দ্রকোণা নিয়ে লেখকের অদম্য কৌতুহল ও বাবার অনুপ্রেরণায় উৎসাহিত হয়ে অবসরের সময়টুকু সেই চর্চা নিয়েই যাপন করছেন। বাইফোকালিজমের একজন অন্যতম সদস্য

আর্যাবর্তের কথা(দুই)

দু র্গা শ ঙ্ক র   দী র্ঘা ঙ্গী

আর্যদের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রভাব ও বিস্তার
(তিন)

মগধের আর্য ভাষার বিস্তার হয়েছিল সমগ্র বাংলা ও ভারতের পূর্বপ্রান্ত জুড়ে । এই ব্যপারে নি:সন্দেহে মৌর্য্য প্রশাসনের ভূমিকা সাহায্য করেছিল।
এইভাবে, বাংলায় আর্যীকরণের সম্ভাব্য সূচনা
হয়েছিল প্রথম সহস্রাব্দের শতাব্দীর সমাপ্তির
সময় থেকে। যদিও আর্যদের অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে এই অনার্যরাই অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। বাংলাতে আর্যীকরণ সম্পূর্ণ রূপে হয়নি ভারতবর্ষের কিছু জায়গার যেমন আর্যীকরণ সম্পন্ন হয়েছিল। এবং এটা চলতে থাকবে যতদিন উত্তর ভারতের কোল, দ্রাবিড়( Dravidian) তিব্বতীয় বর্মণ (Tibeto-Burman) ভাষার পরিসমাপ্তি ঘটে।
আর্যদের ভাষা উৎকর্ষের কারণ হল এই ভাষা
ছিল খুবই সংগঠিত । সভ্যতা ও ধর্মীয় বিকাশের
ক্ষেত্রে বা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ছিল সহায়ক এবংএই ভাষার ব্যবহার অপরিহার্য, যার আগে উপ-গ্রাম্য সংস্কৃতির বাহনহিসাবে অনার্যদের উপজাতি উপভাষার কোনসুযোগ ছিল না।
বাংলা ভাষার উৎপত্তি ৯০০ বর্ষের আগে হয়নি।
আর্যদের ভাষা ছিল মধ্যবর্তী ইন্দো- আর্য (প্রাকৃত)ভাষার মধ্য পর্যায়ে ছিল।
( The Bengali language, however, was not
born before 900A.D. The Aryan speech
was still in the middle Indo-Aryan(Prakriti) stage.)

আর্যজাতির ভাষা ও সংস্কৃতির
বিস্তার

(চার)

ভারতবর্ষে আর্য ভাষার ইতিহাসকে তিন সময়কালে ভাগ করা যায়। ১) পুরাতন ইন্দে-
আর্য সময়কাল , যে সময়ে আর্যরা ভারতে
প্রবেশ করে এবং পাঞ্জাব প্রদেশে বসবাস শুরু করে এবং পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পরে বুদ্ধদেবের
সময় অবধি (প্রায় ১৫০০ খ্রীষ্ট পূর্ব থেকে ৬০০ খ্রীষ্ট
পূর্ব) । এই সময়ে বৈদিক এবং পূর্বের সংস্কৃত উপস্থাপন ছিল। ২) মধ্যবর্তী ইন্দো-আর্য সময়কালে মনে হয় পূর্বের আর্য ভাষা পূর্ব ভারতে
তারপরে উত্তর পশ্চিম ভারতে উদ্ভাসিত ছিল এবং মোটামুটি এই ভাবেই বুদ্ধের সময় থেকে ১০০০ খৃষ্টাব্দ(A.D.) – পালি, অশোকের সময এবং অন্যান্য আক্ষরিক প্রাকৃত, এবং পরবর্তী প্রাকৃত এবং সাহিত্যের অপভ্রংশ এই সময়ের আর্য ভাষাকে উপস্থাপন করে । ৩) নতুন ইন্দো_ আর্য
সময়কাল, শুরু হয়েছিল প্রায় ১০০০ খ্রিস্টাব্দে,
যখন এই আধুনিক ইন্দো- আর্য্য ভাযাগুলি ( স্থানীয় ভাষা গুলি) অপভ্রংশ থেকে বেরিয়ে এসেছিল।

বাংলায় আর্যদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিস্তার
(পাঁচ)

এই মধ্যবর্তী ইন্দো-আর্য (প্রাকৃত / আঞ্চলিক)
বিভিন্ন স্তর উপাদানে বিভক্ত :
পুরানো এবং প্রথম মধ্যবর্তী ইন্দো- আর্য, প্রাচীন -তম প্রাকৃত গুলি দ্বারা টাইপ যুক্ত, যেমন অশোকের সময়ের শিলালিপি গুলি, এবং যেগুলো
পালি ভাষায় লেখা; ক্রান্তি কালীন মধ্যবর্তী ইন্দো- আর্য, শিলালিপি দ্বারা টাইপ করা ২০০ B. C থেকে ২০০A. D., এবং কিছুটা হলেও সৌরসেনী প্রাকৃত দ্বারা;দ্বিতীয় মধ্যবর্তী ইন্দো- আর্য, ২০০-৬০০ A. D.(খ্রী:) যখন সাহিত্য প্রাকৃত; মহারাষ্ট্রী যেমন ব্যবহার করা হয়েছিল। এবং তৃতীয় মধ্যবর্তী ইন্দো- আর্য অথবাঅপভ্রংশ, ৬০০-১০০০ খ্রীষ্টাব্দ( A. D. ), যার মধ্যেপ্রাকৃত /আঞ্চলিক ভাষার অবলুপ্তি হয় এবং যার মধ্য দিয়ে ভাষার বা বর্ণ চর্চার অথবা নতুন ইন্দো-আর্য কথোপকথন / ভাষণের জন্ম হয়।
Middle Indo-Aryan (“Prakrit” Presents a number of strata: Early or First Middle
Indo-Aryan, typified by the oldest Prakrits, as in the Asokan inscriptions, and by Pali;
Transitional Middle Indo-Aryan, typified by the inscriptions from c. 200B.C.to 200 A.D.,
and to some extent by the Sauraseni Prakrit; Second Middle Indo-Aryan, 200-600 A. D., when the literary Prakrits like Maharashtri were in use; and Third Middle
Indo-Aryan Or Apabhramsa, 600-1000A.D.,
in which the Prakrits die and out of which the Bhashas Or ‘Vernacular or New Indo-Aryan speeches are born.

বাংলায় মগধের উপভাষা- পুরাতন বাংলা( Magadha Dialects in Bengal – old Bengali)
(ছয়)

 

মৌর্য্য যুগের সময় যদি মগধের ভাষণ বা কথোপকথন বাংলায় আসে, তবে এটি মধ্য
ইন্দো-আর্যদের প্রথম পর্যায়ের সমাপ্তির সময়
এসেছিল। পরে এটি বাংলার মাটিতে বিকশিত হয়েছিল উপনিবেশগুলির বক্তৃতাতে। প্রসার পেয়েছিল পরবর্তী শতাব্দীতে অধিবাসীদের ধারাবাহিক ভাবে ক্রমাগত শক্তিশালী করণের
সঙ্গে যখন ভাষাটি প্রথম থেকে উর্ত্তীন হয়
(ক্রান্তীয় মাধ্যমে/through the transition)
দ্বিতীয় মধ্য ইন্দো- আর্য পর্যায় পর্যন্ত।
সমস্ত সময়কালে আমাদের যদি বাংলা ও বিহারের প্রকৃত কথ্য ভাষা নমুনাগুলি(specimens) থাকত তবে এটি খুবই সহায়ক হ’ত। তবে অশোকের পূর্ব শিলালিপি
এবং বিহার থেকে ব্রাহ্মী সীল এবং একটি বা দুটি
শিলালিপি ( দক্ষিণ বিহারের রামগড় পাহাড়ের
সুতনুকা শিলালিপির মতো । এছাড়া আমাদের কোন নির্ভরযোগ্য খাঁটি নমুনা নেই।

অশ্বঘোষ (Asvaghosha) (দ্বিতীয় শতাব্দী) থেকে
শুরু করা সংস্কৃত নাটকে কিছু অংশ রয়েছে
যা কিছু উল্লেখযোগ্য অদ্ভুততার অধিকারী যেমন কোনও r নয় এবং কেবলমাত্র l এবং কেবলমাত্র s
এবং কোনও অন্য কোন নির্বোধ; পরবর্তী গ্রন্থগুলি তে ch, j পরিবর্তিত হয়ে ইইচ, ইয়ি; কেকে, চি, টিটি, টিএল, পিপি তে পুনরায় পরিবর্তিত হয়ে
স্ক,, এস, সি, স্ট, ও এস পি তে; থামে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভ্যন্তরে সর্বদা সোনান্ট
স্টপ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী হিসাবে দেখা দেয়; এবং
এ-তে পুরুষালি এবং নিউটার বিশেষ্যগুলি
মনোনীত একবচন affix -e ব্যবহারের জন্য।

তবে আমরা নাটকটির মাগধী প্রয়োগ সত্যিকারের কথ্য স্থানীয় ভাষায় খুব কমই লক্ষ্য করতে পারি –
এটি আর্যাবর্তের চূড়ান্ত পূর্বের পশ্চাদপদ প্রদেশ গুলি কী বলেছিল; তা নিয়ে উত্তর ভারতীয় নাট্যকারের ধারণা টি এক ধরণের।
আমরা এইভাবে নাটকগুলির মাগধী প্রাকৃত নমুনাগুলি ১৯ এবং ২০ শতকের রচিত বাংলা
বা পূর্ব বাংলা নাটকগুলিতে তথাকথিত বাংলা বা পূর্ব বাংলা উপভাষার একটি অসাধারণ চুক্তির মতো আসল নিবন্ধের চেয়ে একরকম অনুকরণের উপভাষার মতো ব্যবহার করতে পারা যায় । যেগুলি কলিকাতা বা পশ্চিম বাংলার লেখকগণ রচনা করেছিলেন এবং যারা পূর্ব বঙ্গে কখন ও আসেন নি।

ক্রমশ…

তথ্য ঋণ: The History of Bengal
Dr. R. C. Majumdar

লেখা পাঠাতে পারেন
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *