অ ত নু রা য়-এর কবিতাগুচ্ছ

পরিচিতি
অতনু রায় এর জন্ম১৯৮৬ সালে, অবিভক্ত বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলের বীজপুর গ্রামে । বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে বসবাস । পেশায় শিক্ষক আর নেশায় বাংলা ভাষার একজন স্বেচ্ছাসেবক । লেখালিখির চর্চা ছাত্রজীবন থেকেই । পছন্দের লেখার জায়গা কবিতা, অণুগল্প,গল্প এবং প্রবন্ধ । একটি মাত্র প্রকাশিত দুই লাইনের কবিতার বই – ‘ক্লান্ত-Couplet’ (২০২০) ।

অ ত নু রা য়

গোধূলি যাপন

কখনো রাত নেমে আসে অগোচরে
আলোর ক্যানভাসে ফুটে ওঠে অন্ধকার …

তোমার খুব কাছে তবু আমি
ছুঁয়ে যাই যা কিছু লুকোবার…

রাত জেগে থাকে

সব কোলাহল থেমে গেলে
একা রাত জেগে ওঠে …

নিশ্চুপ থমথমে নিখাদ
থেমে থাকা একটা রাত …

সভ্যতার আজ বিপুল আয়োজন
শহর জুড়ে রঙিন আলোর খেলা
তবুও শহর রাতের নিয়ম মানে …

শব্দরা সব ঘুমালে একে একে
শহর জুড়ে একা রাত জেগে থাকে …

বৃষ্টি বিকেল

দ্বিধা কাটিয়ে অধঃবদনে
তুমি ‘ ভালোবাসি ‘ বললে
বৃষ্টি নামে …

সঙ্গোপনে ভিজতে থাকে
মন শরীর আশপাশ
গুল্মলতাও জেগে ওঠে …

অসাবধান হাতের স্পর্শে
একমুঠো রোদ্দুর
হেসে ওঠে …

রামধনু রাঙা সেই অনুভবের বিকেলে
তুমি ‘ ভালোবাসি ‘ বললে
বৃষ্টিকেও ভালোবাসতে ইচ্ছে করে …

চিয়ার্স

হোয়াটস অ্যাপ দূরত্বের একক নয় , অপেক্ষারও । তবু এক একটা নিরীহ ইমোজি বদলে দেয় অনেক কিছু . . .

যে চাওয়া ময়াল সাপের মতো জড়িয়ে থাকে, যার ধিকি ধিকি আগুনে পুড়ে যায় সামাজিকত ,তাকে অস্বীকার করার মতো ছাপান্ন ইঞ্চির বুকের ছাতি আমার নেই ।

আমরা সবাই মনের খুব গোপনে একটা ডাস্টবিন লালন করি । সময়ে অসময়ে তুলে আনি মনখারাপ । নিজেকে দুমরে মুচড়ে অকারণে চিয়ার্স বলি . . .

খোঁজ

গোধূলির গন্ধ মুছে গিয়ে
অন্ধকার নেমে আসে চুপিসারে
এমন সন্ধিক্ষণে তোমার কথা
বড্ড বেশী মনে পড়ে

সেই যে কবে দেখেছিলাম তোমায়
এখন শুধু মানচিত্র খুঁজি
বুক ভর্তি নিকোটিন নিয়ে
নিজের সাথে ক্রমাগত যুঝি …

অপেক্ষা

অপেক্ষা কোনো হল্ট স্টেশন নয় । অনন্ত সম্ভাবনার স্বাস্থ্যবতী মরীচিকা ও নয় । অপেক্ষা জাস্ট মেলোডিয়াস রাতে ঝুলে থাকা আধ খাওয়া চাঁদ । যেভাবে পঞ্চম পেগ খাওয়ার পর সমস্ত কার্ফু উঠে যায় । সম্মতির চূড়ান্ত পর্যায়ে দরজা এবং আলো বন্ধ হলে আর কোনো অপেক্ষা থাকে না পাহারায় । একটা আন ওয়ান্টেড সেভেনটি টু অথবা একটা স্মার্ট কার্তুজ সমস্ত অপেক্ষার দি এনড করতে পারে । ঠিক যেমন আম আদমি কে শেষ করে দেবার জন্য একটা ঝকঝকে অ্যামেডমেন্টই যথেষ্ট । তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই । মহাকালের গায়ে লেগে থাকা শ্যাওলার মতো জনতার সরকার ঠিক টিকে যাবে । আর জনতা প্লেজারেবল ক্লাইম্যাক্স এর জন্য অপেক্ষা করবে …

সাঁকো

আমি ইদানিং স্বপ্ন দেখি না। বদলে যাওয়া প্রোফাইল পিকচারে লাভ রিয়্যাক্টও লুকিয়ে রাখি। অপেক্ষা তো একটি ড্রপলেট মাত্র! যে কোনো অসময়ে ছুঁয়ে যেতে পারে।

আপাতত আমাদের মাঝে কোন সাঁকো নেই। আছে শুধু অনন্ত লকডাউন আর লুকোনো টেলিপ্যাথিক সংযোগ! জানি তুমি মাইন্ড গেম কী, তা জানো না। জানতে চেষ্টাও করো না। হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে গেলে, ঠিক কতোটা বাড়তি রক্ত প্রয়োজন হয়? তা জেনে তোমার তো কোনো লাভ নেই।

তবুও অপেক্ষা তো একটি ড্রপলেট মাত্র… লকডাউন উঠলেই ছুঁয়ে ফেলবে সম্ভাবনার প্রতিটি দরজা।

যাপনচিত্র

মধ্যবিত্তের জীবন থেকে অভ্যেস টান মেরে ফেলে দিলে , যেটা পরে থাকে তাকে কী যাপন বলা যায় !মোবাইল ডেটা অন করা এখন অপেক্ষার নতুন নাম । বিশ্রামের পর সমূহের জেগে ওঠা , এও তো যাপনেরই নিজস্ব নিয়ম . . .

স্বপ্নের ঝাঁপি থেকে তুলে আনি বাঁচার রসদ । জানি সত্যি হবে না বলে দিলে । তবু বলে ফেলি ভোরের স্বপ্নের লুকোনো বাস্তবতা . . .

নিজেকে নিজেই পাল্টাতে গিয়ে , আবার অভ্যেসকেই আপন করি । ফ্রয়েডিয় ব্যাখ্যা ছুড়ে ফেলে , স্বপ্ন বিশ্লেষণ করতে করতেই টাইম মেশিনে ঢুকে পড়ি , অপেক্ষার যাপনচিত্র আঁকবো বলে . . .

আমাদের ঈশ্বর

রাস্তার আলোর নিচে
দাঁড়িয়ে আছে আমাদের ঈশ্বর …

গোপাল-রাখালের হাত ধরে
সুবোধ বালক হওয়ার পাঠ নিয়েছি
‘বর্ণপরিচয়’ চিনিয়েছে অক্ষরমালা
আমাদের ‘বোধোদয়’ হয়নি আজও…

দু’শো বছর কম সময় নয় …

রাস্তার মাইলফল সংখ্যা চেনায়…

পথ হাঁটে ঋজু মহাজীবন …

আমাদের ঈশ্বর …

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *